The BuzzLens

Breaking News, News Updates

আন্তর্জাতিকবাংলাদেশরাজনীতি

তিস্তা প্রকল্পে ভারতের উদ্বেগের জবাবে চীনের কড়া বার্তা — “তৃতীয় পক্ষের প্রভাব মানি না”

সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৬ | ঢাকা


তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বেইজিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে — বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনও তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে বাইরের প্রভাব থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিস্তা প্রকল্পে সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে চীন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে এ খবর বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

বেইজিংয়ের মুখপাত্র যা বললেন
বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সরাসরি বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানের সঙ্গে জড়িত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। তিনি জানান, এ প্রকল্পে চীন সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বাণিজ্য, পানি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।


ভারতের উদ্বেগের কারণ কী?
তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকার কাছাকাছি। বিশেষত শিলিগুড়ি করিডর — যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত — সেখান থেকে তিস্তার দূরত্ব খুবই কম। এই করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্যের একমাত্র স্থলসংযোগ। ফলে এই অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি নয়াদিল্লির কাছে কৌশলগত হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো তিস্তা প্রকল্পের কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে চীন সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার মধ্যে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য বার্তা কী?
তিস্তা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দশকের পর দশক ধরে ভারত-বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি ঝুলে থাকার পর চীন এখন এই শূন্যস্থান পূরণ করতে এগিয়ে এসেছে। ভূরাজনৈতিক এই টানাপোড়েনে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? বাংলাদেশের জন্য এটি সুযোগ নাকি ঝুঁকি? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *